Wednesday, April 23, 2025

 

নখ কাটা এবং শরীরের অবাঞ্ছিত লোম পরিষ্কার সংক্রান্ত 
ইসলামী বিধি-বিধান এবং কতিপয় ভ্রান্ত বিশ্বাস:


•••••••••••••••••••••••••••••••••••••••••••••••••••••••••••••••••••••••••••••••


❑ ১)  ৪০ দিনের মধ্যে শরীরের অবাঞ্ছিত লোম পরিষ্কার না করলে কি নামাজ-রোজা ইত্যাদি কোনও ইবাদত কবুল হবে না?


প্রশ্ন: শরীরের অবাঞ্ছিত লোম পরিষ্কার করা সম্পর্কে ইসলামের বিধান কি? আমি জানি, ৪০ দিনের মধ্যে পরিষ্কার করতে হয়। তার মানে কি, যদি কোন কারণে ৪০ দিন পার হয়ে যায় তাহলে কি নামাজ, রোজা, কুরআন তেলাওয়াত ইত্যাদি কোনও ইবাদত কবুল হবে না?


উত্তর:

নি:সন্দেহে ইসলাম অত্যন্ত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন, শুদ্ধ ও পবিত্র জীবনাদর্শের নাম। পাক-পবিত্রতা ইসলামের এক অনন্য গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম একে ঈমানের শাখা হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তাই ইসলামে, নখ কাটা এবং মোচ, বগল, নাভির নিচের পশম ইত্যাদি শরীরের অবাঞ্ছিত লোম পরিষ্কার করার সর্বোচ্চ মেয়াদ ৪০ দিন নির্ধারণ করে দেয়া হয়েছে। এর মধ্যেই তা পরিষ্কার করা সুন্নত।

আনাস ইবনে মালেক রা. থেকে বর্ণিত। তিনি বলেছেন,

وُقِّتَ لَنَا فِي قَصِّ الشَّارِبِ وَتَقْلِيمِ الأَظْفَارِ وَنَتْفِ الإِبْطِ وَحَلْقِ الْعَانَةِ أَنْ لاَ نَتْرُكَ أَكْثَرَ مِنْ أَرْبَعِينَ لَيْلَةً

"গোঁফ ছাটা, নখ কাঁটা, বগলের লোম উপড়িয়ে ফেলা এবং নাভির নিচের লোম ছেঁচে ফেলার জন্যে আমাদেরকে সময়সীমা নির্দিষ্ট করে দেওয়া হয়েছে যেন আমরা তা করতে চল্লিশ দিনের অধিক দেরী না করি।" [মুসলিম, অধ্যায়: পাক-পবিত্রতা, হা/৪৮৭]

রাসূলুল্লাল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন,

«الْفِطْرَةُ خَمْسٌ : الْخِتَانُ وَالاِسْتِحْدَادُ وَنَتْفُ الإِبْطِ وَتَقْلِيمُ الأَظْفَارِ وَقَصُّ الشَّارِبِ».

‘পাঁচটি জিনিস মানুষের স্বভাবজাত বিষয়: খতনা করা, ক্ষৌরকার্য করা (নাভির নিম্নের অবাঞ্ছিত লোম পরিষ্কার করা), বগলের চুল উপড়ানো, নখ কাটা ও গোঁফ ছোট করা।" [সহিহ বুখারি ও মুসলিম]

সুতরাং কেউ যদি অবহেলা বশত: ইচ্ছাকৃত ভাবে এই মেয়াদ অতিক্রম করে তাহলে সে গুনাহগার হবে। কিন্তু তার অর্থ এই নয় যে, অলসতা, ব্যস্ততা, ভুলে যাওয়া ইত্যাদি কোনও কারণে ৪০ দিনের মধ্যে এগুলো পরিষ্কার করা না হলে নামাজ, রোজা, কুরআন তিলাওয়াত ইত্যাদি কোন এবাদত কবুল হবে না। বরং যথানিয়মে সঠিক পদ্ধতি ইবাদত করা হলে, আশা করা যায় আল্লাহ তাআলা তা কবুল করবেন ইনশাআল্লাহ। অবশ্য, ময়লা জমে পবিত্রতা অর্জনে বিঘ্ন সৃষ্টি করলে তাতে সালাত ও পবিত্রতা সংশ্লিষ্ট ইবাদতগুলো শুদ্ধ হবে না।


এ ক্ষেত্রে করণীয় হল, রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কর্তৃক নির্ধারিত মেয়াদ অতিক্রম করার কারণে আল্লাহর নিকট তওবা করা এবং অনতি বিলম্বে এসব নোংরামি থেকে পরিচ্ছন্নতা অর্জন করা। আল্লাহ তৌফিক দান করুন। আমীন

••••••••••••••••••••••

❑ ২) প্রশ্ন: নাভির নিচের লোম পরিষ্কার করার সময় যদি ২/১ টা অবশিষ্ট থেকে যায় তাহলে কি নামাজ হবে?

উত্তর:

হাদিসের ভাষ্য অনুযায়ী সর্বোচ্চ চল্লিশ দিনের মধ্যে ভালোভাবে নাভির নিচের লোম, বগলের পশম (পুরুষদের মোচ) ইত্যাদি পরিষ্কার করা জরুরি। অন্যথায় গুনাহগার হতে হবে। তবে কেউ যদি এ সময়ের মধ্যে অলসতা, ব্যস্ততা, ভুলে যাওয়া ইত্যাদি কোনও কারণে তা না পরিষ্কার করে বা অসতর্কতা বশত: কিছু লোম অবশিষ্ট থেকে যায় তাহলে এ অবস্থায় যথারীতি পবিত্রতা অর্জন করত: সালাত আদায় করলে তাতে সালাতের কোনও ক্ষতি হবে না। তবে ইচ্ছাকৃত যেন এমনটি না হয় সে ব্যাপারে সতর্ক থাকা কর্তব্য।

••••••••••••••••••••••

❑ ৩) প্রশ্ন: নাভির নিচের লোম কি নাপাক?

উত্তর:

 ইসলামে নাভির নিচের লোম, বগলের নিচের পশম, নখ ইত্যাদি পরিষ্কারের উপর গুরুত্বারোপ করা হয়েছে এবং সর্বোচ্চ ৪০ দিন সময়সীমা বেঁধে দেয়া হয়েছে। এর অতিরিক্ত সময় নখ ও শরীরের অতিরিক্ত লোম পরিষ্কার না করা গুনাহ।

তবে নখ, চুল, পশম, অতিরিক্ত চামড়া এগুলো নাপাক নয় ইত্যাদি শরীরের উপরিভাগে থাকা জিনিসগুলো নাপাক নয়। কেননা হাদিসে এগুলোকে নাপাক বলা হয় নি। তবে পেশাব, পায়খানা, পুঁজ, প্রবাহিত রক্ত ইত্যাদি শরীরের ভেতর থেকে বাইরে বের হয়ে আসা বস্তু সমূহ নাপাক।

••••••••••••••••••••••

❑ ৪) প্রশ্ন: শনিবার ও বুধবার কি চুল কাটা কি নিষেধ?


উত্তর: 

নখ কাটার জন্য বিশেষ কোন দিন, ক্ষণ বা পদ্ধতি সহিহ হাদিস দ্বারা সাব্যস্ত নয়। হাদিসের নাম দিয়ে এ সংক্রান্ত কিছু কথা সমাজে প্রচলিত আছে। কিন্তু মুহাদ্দিসগণের দৃষ্টিতে এগুলো সব জাল-জঈফ কথা। সুতরাং তাতে বিশ্বাস করা বা সে আলোকে আমল করা বৈধ নয়।

বলা হয়ে থাকে, “শনি, ও বুধবার নখ ও চুল কাটা যাবে না। নিশ্চয়ই তা শ্বেত কুষ্ঠ হওয়ার কারণ।” কিন্তু হাদিসের নামে এটি সম্পূর্ণ বানোয়াট, মিথ্যাচার ও কুসংস্কার পূর্ণ কথা।

এ ছাড়াও উমুক দিন নখ কাটলে এই হবে-সেই হবে। উমুক দিন কাটলে এই রোগ-ব্যাধি বা ক্ষয়-ক্ষতি হবে। উমুক দিন কাটলে এই উপকার হবে-এ জাতীয় কথাবার্তা কুসংস্কার পূর্ণ হিন্দুয়াবী বিশ্বাস থেকে উৎসারিত। কোন মুসলিমের জন্য এ সব কথায় বিশ্বাস পোষণ করা জায়েজ নাই।


➧ কোন দিন নখ-চুল কাটলে কী হয়?


অনেক হিন্দুদের মধ্যে সপ্তাহের দিন হিসেবে নখ-চুল কাটাকে শুভ-অশুভ মানা হয়। যেমন:

 ◆ শনিবারে চুল বা নখ কাটা অনেক বিপদ ডেকে আনতে পারে। এমনকি হঠাৎ মৃত্যু পর্যন্ত ঘটতে পারে!

 ◆ রবিবারে চুল-নখ কাটাকে অশুভ বলে মনে করা হয়। সম্পত্তি, মানসিক স্থিতি এবং ধর্মের উপর প্রভাব পড়ে এই দিন চুল বা নখ কাটলে!

 ◆ সোমবারে চুল কাটলে মানুষের মানসিক অবস্থার উপর এবং শিশুর শারীরিক অবস্থার উপর এর প্রভাব  পড়ে!

 ◆ মঙ্গলবার চুল বা নখ কাটলে আয়ু কমে যায়!

 ◆ বুধবারে নখ বা চুল কাটলে দেবী লক্ষ্মীর আশীর্বাদ পাওয়া যায়!

 ◆ বৃহস্পতিবার চুল-নখ কাটা মানে লক্ষ্মীকে অপমান করা হয়!

 ◆ শুক্রবার সৌন্দর্য বৃদ্ধি পায়। এদিন চুল বা নখ কাটলে সাফল্য আসে! 

 ◆ সূর্যাস্তের পর নখ কাটলে ভয়াবহ বিপদ আসতে পারে!

(উৎস: dailyhunt in)

 বলা বাহুল্য যে, ইসলামের দৃষ্টিতে নখ-চুল কাটার ক্ষেত্রে বিশেষ কোনও দিন বা ক্ষণকে শুভ-অশুভ মনে করা হারাম। ইসলামের দৃষ্টিতে এগুলো সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও ভ্রান্ত কুসংস্কার ছাড়া অন্য কিছু নয়। (আল্লাহ আমাদেরকে ক্ষমা করুন। আমিন)


মোটকথা, হাত বা পায়ের নখ লম্বা হলে বা কাটার প্রয়োজন অনুভব হলে যে কোন মুহূর্তে তা কাটা যাবে। তবে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম নখ, মোচ, বগলের লোম পরিষ্কার ও নাভির নিচের লোম কাটার জন্য সর্বোচ্চ ৪০ দিন সময় নির্ধারণ করে দিয়েছেন-যেমনটি পূর্বোক্ত হাদিসে বর্ণিত হয়েছে। সুতরাং ইচ্ছাকৃতভাবে এর ব্যতিক্রম করা যাবে না।

••••••••••••••••••••••

❑ ৬) প্রশ্ন: আমি লন্ড্রিতে কাজ করি। সে ক্ষেত্রে হাতের নখ ছোট রাখলে আঙুলের সমস্যা হয়। এক্ষেত্রে কি আমি কিছুটা বড় রাখতে পারবো?


উত্তর:

কা ফির-মু শরিক এবং ফাসেক নায়ক-নায়িকাদের অনুকরণে নখ বড় রাখা জায়েজ নাই (যেমনটি অনেক যুবক-যুবতি আধুনিক ফ্যাশনের নামে করে থাকে)। বরং ইসলামের নির্দেশ হল, সর্বোচ্চ ৪০ দিনের মধ্যে নখ ও শরীরের অতিরিক্ত পশম কাটাতে হবে; অন্যথায় গুনাহগার হতে হবে। হাদিসে এসেছে:

আনাস ইবনে মালেক রা. থেকে বর্ণিত। তিনি বলেছেন,

وُقِّتَ لَنَا فِي قَصِّ الشَّارِبِ وَتَقْلِيمِ الأَظْفَارِ وَنَتْفِ الإِبْطِ وَحَلْقِ الْعَانَةِ أَنْ لاَ نَتْرُكَ أَكْثَرَ مِنْ أَرْبَعِينَ لَيْلَةً

"গোঁফ ছাটা, নখ কাঁটা, বগলের লোম উপড়িয়ে ফেলা এবং নাভির নিচের লোম ছেঁচে ফেলার জন্যে আমাদেরকে সময়সীমা নির্দিষ্ট করে দেওয়া হয়েছে যেন আমরা তা করতে চল্লিশ দিনের অধিক দেরী না করি।" [মুসলিম, অধ্যায়: পাক-পবিত্রতা, হা/৪৮৭]


আবু হুরায়রা রা. থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, 

‏ "‏ الْفِطْرَةُ خَمْسٌ - أَوْ خَمْسٌ مِنَ الْفِطْرَةِ - الْخِتَانُ وَالاِسْتِحْدَادُ وَتَقْلِيمُ الأَظْفَارِ وَنَتْفُ الإِبِطِ وَقَصُّ الشَّارِبِ ‏"‏

"ফিতরাত (স্বভাবজাত ধর্ম) পাঁচটি অথবা পাঁচটি জিনিস স্বভাবজাত বিষয়:

● ক. খতনা করা,

● খ.নাভির নিচের লোম পরিষ্কার করা,

● গ. নখ কাটা,

● ঘ. বগলের পশম তুলে ফেলা

● ঙ. এবং মোচ কাটা।" (বুখারি ৫৮৮৯, ৫৮৯১, ৬২৯৭; মুসলিম ২৫৭/১-২)

তবে-যেমনটি আপনি বলেছেন-বিশেষ দরকারে যদি নখ বড় রাখার প্রয়োজন হয় তাহলে ইনশাআল্লাহ গুনাহ হবে না। নিশ্চয় আল্লাহ বান্দার নিয়ত সম্পর্কে সম্যকভাবে অবগত।

দুআ করি, আল্লাহ আপনার ইনকামে বরকত দান করেন। আমীন।

Friday, April 11, 2025


ইহুদী ধর্মের জাতির পিতা এবং ইসলাম ধর্মের জাতির পিতা 
একজন ই, হযরত ইবরাহীম(আঃ)।

ইবরাহীম(আঃ) এর দুই পুত্র, ইসহাক(আঃ) আর ইসমাইল(আঃ)। 


 


💦হয়রত ইসহাক(আঃ) এর পুত্র ছিলেন হযরত ইয়াকুব(আঃ), উনার আরেক নাম ইস/রা/ইল। এই ইয়াকুব(আঃ) এর বংশকে আল্লাহ্ তা'আলা বনি-ই/সরা/ইল নামে সম্বোধন করেছেন।


💦হযরত ইয়াকুব(আঃ) এর ১২সন্তানের মধ্যে ১জনের নাম ছিলো ইয়াহুদা। এই ইয়াহুদা এর বংশই পরবর্তীতে সবচেয়ে বেশি বিস্তার লাভ করে। 

তাই, বনি-ই/সরা/ইল এর আরেক নাম ই/হু/দী। 


ই/হু/দী ধর্ম আর বংশ দুটো আলাদা। 

সব ইহুদী বংশের লোক ইহুদী ধর্মের হলেও সব ইহুদী ধর্মের লোক ই ইয়াহুদার বংশ নয়। 

এই ইয়াহুদা ই কিন্তু তার আপন ভাই ইউসুফ(আঃ) কে কূপে ফেলে হত্যা করতে চেয়েছিল!


৪ হাজার বছর আগে ইসহাক(আঃ) এর মৃত্যুর পর ইয়াকুব(আঃ) আল্লাহ্‌'র নির্দেশে শামনগরী (সিরিয়া) থেকে কেনানে হিজরত করেন। এই কেনান ই বর্তমানের ফিলিস্তিন। 


এরপর কেনানে (ফিলিস্তিন) দুর্ভিক্ষ দেখা দিলে ইয়াহুদা তার সব ভাই এর সাথে মিশরে চলে যায় এবং মিশরে বসবাস শুরু করে। 


মিশরের তখনকার রাজা ছিলেন ইউসুফ(আঃ), যিনি ইয়াকুব(আঃ) এর ১২সন্তানের মধ্যে ১১তম। সেই কারণে ইয়াহুদা ও তার বংশ মিশরে অনেক দাপটের সাথে থাকতে শুরু করে। 


তারপর কালের পরিক্রমায় ক্ষমতা যায় ফারাও রাজাদের হাতে। ফেরাউন এসে বনি-ই/সরা/ইলদের এত অত্যাচার শুরু করে যে এরা সারাদিন 'ইয়া নাফসী' 'ইয়া নফসী' করতো। 

তখন আল্লাহ্ তাদের কাছে পাঠালেন মূসা(আঃ) আর তাওরাত কিতাব। মুসা(আঃ) ফেরাউনকে নীলনদে ডুবানোর মাধ্যমে বনি-ই/সরা/ইল মুক্তি পায়।


তারপর মূসা(আঃ) সবাইকে নিয়ে কেনানে (ফিলিস্তিন) ফিরে যান। পরে তারা সেখানে গিয়ে আল্লাহ্‌'র অশেষ রহমত পাওয়া সত্ত্বেও মুসা(আঃ) এর ওফাতের পর আবার আল্লাহ্‌ কে ভুলে যায়, গরুপূজা সহ নানা রকম অনাচার শুরু করে। 


তারপর তাদের মধ্যে ক্ষমতার লোভে নিজেদের একতা ভেঙ্গে যায়, ভিনদেশীরা তাদের এই সুযোগ কাজে লাগিয়ে তাদের আবার গোলাম বানিয়ে অত্যাচার করতে থাকে। 

এর ১০০বছর পরে দাউদ(আঃ) আর উনার ছেলে সুলাইমান(আঃ) এর মাধ্যমে আল্লাহ তা'আলা আবারও এই অত্যাচার থেকে তাদেরকে মুক্তি দেন।


কিন্তু সুলাইমান(আঃ) এর মৃত্যুর পর ই/হু/দীরা আবার শয়তানের পূজা শুরু করে। তাদের ভিতরে থাকা ধর্ম ব্যবসায়ীরা তাওরাত কিতাবের মধ্যে নিজেদের সুবিধামত সংযোজন-বিয়োজন করার মতন ধৃষ্টতা দেখায়। 

তারা তাওরাতে সংযোজন করে যে, "আল্লাহ্ তায়ালা ইসহাক(আঃ) এর স্বপ্নে কেনানকে ইহুদীদের জন্য প্রমিজ ল্যান্ড হিসেবে দিয়েছেন, এটা তাদের জয় করে নিতে হবে।" 

এটাকে তারা 'জেকব লেডার ড্রিম' বলে।


তাদের এমন নির্লজ্জতা ও ধৃষ্টতার কারণে তারা বারবার আল্লাহ্‌'র শা/স্তির মুখে পড়েছে। যেমনঃ 

কখনো গৃহহীন হয়ে যাযাবরের মতো ঘুরেছে,

ব্যবিলনীয় সাম্রাজ্যের দ্বারা গণহ/ত্যার শিকার হয়েছে,

রোমান সাম্রাজ্যের দ্বারা সিরিয়া থেকে আরব দেশে বিতাড়িত হয়েছে। 

মহানবী(সাঃ) এর সময় তারা আরব দেশ থেকে বিতাড়িত হয়ে চলে যায় ইউরোপে। 

আর উমার(রা:) ফিলিস্তিন ও আল-আকসা বিজয় করেন।

আজ ইস/রা/য়েলের এতো ঘনিষ্ঠ বন্ধু ইউরোপও তখন তাদেরকে আশ্রয় দেয়নি। 


বনি-ইস/রা/ইলের এমন পরিণতির কারণ আল্লাহ তায়ালা এর শা/স্তির পাশাপাশি তাদের ব্যবহার! 

তখনকার লোকদের ভাষ্যমতে, তারা অত্যন্ত ধূর্ত প্রকৃতির মানুষ ছিল। 

তাদেরকে যে জায়গায় আশ্রয় দেয়া হতো সেই জায়গাতেই তারা তাদের প্রতিবেশীর জমি দখল করতো!


ই/হু/দীরা বেশিরভাগ ব্যবসায়ী ছিল আর তাদের ব্যবসা অন্যদের থেকে কৌশলগতভাবে আলাদা ছিলো, যার কারণে যাযাবরের মতো ঘুরলেও তাদের অর্থ-সম্পদ ভালোই ছিল। সেই অর্থ-সম্পদ এর দাপট দেখিয়ে তারা সেইসব এলাকার স্থানীয় লোকদের উপরই ছড়ি ঘুরাতো। 

তাই তারা সেইসব এলাকার রাজা ও বাসিন্দাদের দ্বারা বার বার বিতাড়িত হতো। 


বিভিন্ন ঘাত-প্রতিঘাত সহ্য করার পর তারা একসময় বুঝতে পারে যে, যেকোনো সমাজকে নিজেদের নিয়ন্ত্রণে রাখতে গেলে শিক্ষা ও অর্থের বিকল্প নেই।

তাই তারা শিক্ষা অর্জন ও অর্থ উপার্জনের উপর গুরুত্ব দেয়। 

তারা বিশ্বাস করে, কেনান তাদের জন্য সৃষ্টিকর্তা কর্তৃক বরাদ্দকৃত ভূমি।

তারা এটাও বিশ্বাস করে যে, একসময় তাদের একজন মসিয়াহ্‌(দাজ্জাল) এসে তাদের এই ভূমিকে উদ্ধার করে দিবে।


১৮ শতাব্দীতে ই/হু/দীরা তাদের ধর্ম-পরিচয় গোপন করে ইউরোপে বসবাস শুরু করে। 

তখন থিওডোর হার্জেল নামে তাদেরই একজন ব্যবসায়ী ফিলিস্তিনকে নিজেদের দখলে আনার লক্ষ্যে ১৮৯৭ সালে জিওনিজম আন্দোলন শুরু করে ই/হু/দীদেরকে আবারও নতুন করে স্বপ্ন দেখানো শুরু করে। 

এই আন্দোলনকে যারা সমর্থন করে, তাদেরকে জিওনিস্ট বলে। 


যেহেতু ই/হু/দীরা অনেক শিক্ষা অর্জন আর অর্থ উপার্জন করেছিলো, তাই তাদের মধ্যে কিছু সংখ্যক মানুষ ইউরোপে ধর্ম গোপন করে থাকলেও কেউ কেউ মেধার জোরে ইউরোপে গুরুত্বপূর্ণ পদ দখল করতে, বিজ্ঞানী হিসেবে স্বীকৃতি পেতে শুরু করে। 

তখন তারা শুধুমাত্র পদ দখল করেই থেমে থাকেনি, সেই সাথে নিজেদের একটা রাষ্ট্র গঠনেও প্রচুর সমর্থন সংগ্রহ করার চেষ্টা করতে থাকে। 


তখন ইউরোপের সর্বোচ্চ পর্যায় থেকে সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছিলো, তাদেরকে আফ্রিকার উগান্ডায় থাকার ব্যবস্থা করে দেয়া হবে। 

ঠিক এমন সময় শুরু হয় প্রথম বিশ্বযুদ্ধ। 


প্রথম বিশ্বযুদ্ধের আগে যুক্তরাজ্য নিজেদের অস্ত্র সংরক্ষণের জন্য এক ধরনের গ্লিসারিন ইউজ করতো, যেটা আসতো জার্মানি থেকে। 

কিন্তু যুদ্ধের সময় জার্মানি যুক্তরাজ্যের বিপক্ষে থাকায় গ্লিসারিন সরবরাহ বন্ধ করে দেয়। 


তখন যুক্তরাজ্যকে সাহায্য করতে এগিয়ে আসে চাইম ওয়াইজম্যান নামক একজন ই/হু/দী গবেষক ও ব্যবসায়ী। তিনি গ্লিসারিন এর বদলে এসিটোন দিয়ে অস্ত্র সংরক্ষণের পদ্ধতি শিখিয়ে দেন এবং যুদ্ধে প্রচুর অর্থ সহায়তা দেন। 

তার এমন অভুতপূর্ব অবদানের জন্য যুদ্ধের পর যুক্তরাজ্য যখন তাকে পুরস্কৃত করতে চায়, তখন সে জানায় যে তার একমাত্র পুরস্কার হবে তাদের প্রমিজল্যান্ড মানে ফিলিস্তিনে তাদের বসবাসের সুযোগ করে দেয়া!

এখানে উল্লেখ্য, চাইম ছিলেন জিওনিজম আন্দোলনের একজন গুরুত্বপূর্ণ সদস্য।


ফিলিস্তিন তখন ছিল উসমানী সালতানাতের দখলে। প্রথম বিশ্বযুদ্ধে পরাজয়ের পর তুরস্কের ক্ষমতা একেবারে নিঃশেষ হয়ে যায়। সেই সুযোগে ধাপে ধাপে ই/হু/দীরা ফিলিস্তিনে প্রবেশ করতে থাকে। 

প্রথমে তারা ফিলিস্তিনিদের কাছে ঘর ভাড়া করে থাকতে শুরু করে, তারপর বেশি দামের লোভ দেখিয়ে সেগুলো কিনতে থাকে। 


দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে জার্মানি পরাজয়ের পর পুরো বিশ্বের ক্ষমতা ইউরোপের হাতে চলে যায়। 

ই/হু/দীরা তখন স্থানীয় ফিলিস্তিনিদেরকে অত্যাচার-জোর-জবরদস্তি করা শুরু করলে ফিলিস্তিনিরা প্রতিবাদ করে। 


তখনই ইউরোপ থেকে ঘোষণা আসে, পুরো ফিলিস্তিনের ৫৫ ভাগ থাকবে ফিলিস্তিনিদের দখলে আর বাকি ৪৫ ভাগ হবে ই/হু/দীদের।

৬লাখ ই/হু/দীর জন্য ৪৫% আর ১২কোটি ফিলিস্তিনির জন্য ৫৫% জায়গা!


জাতিসংঘ থেকে স্বীকৃতি পাওয়ার পর ই/হু/দীরা ইজ/রা/য়েল রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করে।নবগঠিত এই রাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট হয় চাইম ওয়াইজম্যান। 


ইজ/রায়ে/ল রাষ্ট্র গঠন হওয়ার ঠিক ৬ মিনিটের মধ্যে আমেরিকা তাদেরকে স্বীকৃতি দেয়! 


আর এভাবেই যুক্তরাজ্য ও যুক্তরাষ্ট্রের প্রত্যক্ষ মদদে তারা ইয়াকুব(আঃ) এর সাথে কেনানে আসা যাযাবর থেকে আজকে গাজাকে ধ্বংসকারী দানবে পরিণত হয়েছে!


আর বিশ্বের সকল মুসলিম রাষ্ট্রপ্রধানেরা মুখে কুলুপ এঁটে চুপ করে বসে আছেন আর চোখে ঠুঁলি পরে সবকিছুকে না দেখার ভান করছেন!


লেখক: 

মুফতী মুহাম্মাদ আল-মাদানী

 — আরবী সাহিত্য বিভাগ 

🌸 জামিয়া ইসলামিয়া মুহাম্মাদিয়া দারুল উলূম ঢাকা 🌹




 









 ইসলামের বিজয় লাভের ১০টি শর্ত

▬▬▬▬◐◯◑▬▬▬▬▬

ইসলামের ইতিহাসে প্রথম বদর যুদ্ধ 
---------------------------------------------------------------------

ইসলামের বিজয় প্রত্যেক ইমানদার ব্যক্তির হৃদয়ের একান্ত ব্যাকুলতা, প্রত্যাশা ও স্বপ্ন। কিন্তু তা শুধু স্বপ্ন নির্ভর নয় বরং কর্ম নির্ভর। তাই ইসলামের বিজয়ের পতাকা উড্ডীন করার জন্য মুসলিমদের জন্য যে সকল শর্তাবলী পূরণ করা আবশ্যক কুরআন-সুন্নাহর আলোকে সেগুলো অতি সংক্ষেপে উপস্থাপন করা হল:


❖ ১) ইসলামের বিজয়ের জন্য সর্বপ্রথম ও সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ শর্ত হল, মুসলিমগণ ব্যক্তি জীবনে শিরক মুক্ত ঈমান ও বিদআত মুক্ত আমল দ্বারা সমৃদ্ধ হবে। তারপর পরিবারে তার বাস্তবায়ন ঘটাবে। তারপর মানুষের কাছে ধৈর্যের সাথে তার প্রচার-প্রসার ঘটাবে এবং 'সৎ কাজের আদেশ ও অসৎ কাজের নিষেধ করা'র দায়িত্ব পালন করবে। [বিস্তারিত পড়ুন সূরা আসর (১০৩ নং সূরা) এর ব্যাখ্যা]


❖ ২) সংঘবদ্ধ প্রচেষ্টা এবং বিচ্ছিন্নতা পরিহার:

আল্লাহ তাআলা বলেন,

وَاعْتَصِمُوا بِحَبْلِ اللَّـهِ جَمِيعًا وَلَا تَفَرَّقُوا ۚ وَاذْكُرُوا نِعْمَتَ اللَّـهِ عَلَيْكُمْ إِذْ كُنتُمْ أَعْدَاءً فَأَلَّفَ بَيْنَ قُلُوبِكُمْ فَأَصْبَحْتُم بِنِعْمَتِهِ إِخْوَانًا وَكُنتُمْ عَلَىٰ شَفَا حُفْرَةٍ مِّنَ النَّارِ فَأَنقَذَكُم مِّنْهَا

"আর তোমরা সকলে আল্লাহর রজ্জুকে সুদৃঢ় হস্তে ধারণ কর; পরস্পর বিচ্ছিন্ন হয়ো না। আর তোমরা সে নেয়ামতের কথা স্মরণ কর, যা আল্লাহ তোমাদেরকে দান করেছেন। তোমরা পরস্পর শত্রু ছিলে। অতঃপর আল্লাহ তোমাদের মনে সম্প্রীতি দান করেছেন। ফলে, এখন তোমরা তাঁর অনুগ্রহের কারণে পরস্পর ভাই ভাই হয়েছ। তোমরা এক অগ্নিকুণ্ডের পাড়ে অবস্থান করছিলে। অতঃপর তা থেকে তিনি তোমাদেরকে মুক্তি দিয়েছেন। এভাবেই আল্লাহ নিজের নিদর্শনসমুহ প্রকাশ করেন, যাতে তোমরা হেদায়েত প্রাপ্ত হতে পার।" (সূরা আলে ইমরান: ১০৩)


তিনি আরও বলেন,

وَأَطِيعُوا اللَّـهَ وَرَسُولَهُ وَلَا تَنَازَعُوا فَتَفْشَلُوا وَتَذْهَبَ رِيحُكُمْ ۖ وَاصْبِرُوا ۚ إِنَّ اللَّـهَ مَعَ الصَّابِرِينَ 

"আর আল্লাহ তা’আলার নির্দেশ মান্য কর এবং তাঁর রসূলের। তাছাড়া তোমরা পরস্পরে বিবাদে লিপ্ত হইও না। যদি তা কর, তবে তোমরা কাপুরুষ হয়ে পড়বে এবং তোমাদের প্রভাব চলে যাবে। আর তোমরা ধৈর্য্যধারণ কর। নিশ্চয়ই আল্লাহ তা'আলা রয়েছেন ধৈর্য্যশীলদের সাথে।" (সূরা আনফাল: ৪৬)


❖ ৩) হৃদয়ে জিহাদি চেতনা উজ্জিবীত করা এবং জিহাদের শর্তাবলী পূরণ সাপেক্ষে কাফেরদের বিরুদ্ধে জানমাল দ্বারা সর্বাত্মক জিহাদ করা:


আল্লাহ তাআলা বলেন,

وَقَاتِلُوهُمْ حَتَّىٰ لَا تَكُونَ فِتْنَةٌ وَيَكُونَ الدِّينُ لِلَّـهِ ۖ فَإِنِ انتَهَوْا فَلَا عُدْوَانَ إِلَّا عَلَى الظَّالِمِينَ

"আর তোমরা তাদের সাথে লড়াই কর, যে পর্যন্ত না ফেতনার অবসান হয় এবং আল্লাহর দ্বীন প্রতিষ্ঠিত হয়। অতঃপর যদি তারা নিবৃত হয়ে যায় তাহলে কারো প্রতি কোন জবরদস্তি নেই, কিন্তু যারা জালেম (তাদের ব্যাপারে আলাদা)।" (সূরা বাকারা: ১৯৩)

তিনি আরও বলেন,

قَاتِلُوهُمْ يُعَذِّبْهُمُ اللَّـهُ بِأَيْدِيكُمْ وَيُخْزِهِمْ وَيَنصُرْكُمْ عَلَيْهِمْ وَيَشْفِ صُدُورَ قَوْمٍ مُّؤْمِنِينَ -وَيُذْهِبْ غَيْظَ قُلُوبِهِمْ ۗ وَيَتُوبُ اللَّـهُ عَلَىٰ مَن يَشَاءُ ۗ

"যুদ্ধ কর ওদের সাথে, আল্লাহ তোমাদের হস্তে তাদের শাস্তি দেবেন। তাদের লাঞ্ছিত করবেন, তাদের বিরুদ্ধে তোমাদের জয়ী করবেন এবং মুসলমানদের অন্তরসমূহ শান্ত করবেন এবং তাদের মনের ক্ষোভ দূর করবেন। আর আল্লাহ যার প্রতি ইচ্ছা ক্ষমাশীল হবে, আল্লাহ সর্বজ্ঞ, প্রজ্ঞাময়।" (সূরা তওবা: ১৫)


রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন,

من مات ولم يغز ولم يحدث به نفسه بالغزو مات على شعبة من نفاق

“যে ব্যক্তি এমন অবস্থায় মৃত্যু বরণ করলো যে, কখনো জিহাদও করে নি এবং মনে কখনো জিহাদের প্রতি আগ্রহও সৃষ্টি হয় নি তাহলে সে নেফাকের একটি শাখার উপর মৃত্যু বরণ করলো”। (সহিহ মুসলিম)

 

❖ ৪) চতুর্দিকে শত্রুর জয়জয়কার, মুসলিমদের অধঃপতন এবং সার্বিক দুরবস্থা দেখে হীনমন্যতায় না ভোগা। বরং হৃদয়ে আল্লাহর রহমত ও সাহায্য প্রাপ্তির আশা উজ্জীবিত রাখা। আল্লাহ তাআলা বলেন,

وَلَا تَهِنُوا وَلَا تَحْزَنُوا وَأَنتُمُ الْأَعْلَوْنَ إِن كُنتُم مُّؤْمِنِينَ

"আর তোমরা নিরাশ হয়ো না এবং দুঃখ করো না। যদি তোমরা মুমিন হও তবে, তোমরাই জয়ী হবে।" (সূরা আলে ইমরান: ১৩৯)


তিনি আরও বলেন,

وَلَا تَيْأَسُوا مِن رَّوْحِ اللَّـهِ ۖ إِنَّهُ لَا يَيْأَسُ مِن رَّوْحِ اللَّـهِ إِلَّا الْقَوْمُ الْكَافِرُونَ

"তোমরা আল্লাহর রহমত থেকে নিরাশ হয়ো না। নিশ্চয় আল্লাহর রহমত থেকে কাফের সম্প্রদায়, ব্যতীত অন্য কেউ নিরাশ হয় না।" (সূরা ইউসুফ: ৮৭)


❖ ৫) সর্ব প্রকার পাপাচার, আল্লাহর নাফরমানি, শিরক, বিদআত, মুনাফেকি, নৈতিক স্খলন, জুলুম-নির্যাতন, অন্যায়-অবিচার, অধিকার হরণ, দুর্নীতি ইত্যাদি থেকে আল্লাহর নিকট তওবা করা এবং নিজেদের অবস্থার পরিবর্তন ঘটানো। তাহলে আল্লাহও আমাদের অবস্থার পরিবর্তন ঘটাবেন। অন্যথায় পরিবর্তনের চিত্তাকর্ষক শ্লোগান, ইসলাম প্রতিষ্ঠার আন্দোলন ও স্বপ্ন-পরিকল্পনা সব ভেস্তে যাবে।

আল্লাহ তাআলা বলেন,

إِنَّ اللَّـهَ لَا يُغَيِّرُ مَا بِقَوْمٍ حَتَّىٰ يُغَيِّرُوا مَا بِأَنفُسِهِمْ ۗ

"আল্লাহ কোন জাতির অবস্থা পরিবর্তন করেন না, যে পর্যন্ত না তারা তাদের নিজেদের অবস্থা পরিবর্তন করে।"(সূরা রা'দ: ১১)

তিনি আরও বলেন,

ذَٰلِكَ بِأَنَّ اللَّـهَ لَمْ يَكُ مُغَيِّرًا نِّعْمَةً أَنْعَمَهَا عَلَىٰ قَوْمٍ حَتَّىٰ يُغَيِّرُوا مَا بِأَنفُسِهِمْ

"তার কারণ এই যে, আল্লাহ কখনও পরিবর্তন করেন না, সে সব নেয়ামত, যা তিনি কোন জাতিকে দান করেছিলেন, যতক্ষণ না সে জাতি নিজেই পরিবর্তিত করে দেয় নিজের জন্য নির্ধারিত বিষয়।" (সূরা আনফাল: ৫৩)


❖ ৬) আল্লাহর দীনকে এবং আল্লাহর দীনের জন্য যারা কাজ করে তাদেরকে সাহায্য করা এবং আল্লাহর বিধানকে সমাজে প্রতিষ্ঠিত করার জন্য পরস্পরকে সাহায্য-সহযোগিতা করা।

আল্লাহ তাআলা বলেন,

يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا إِن تَنصُرُوا اللَّـهَ يَنصُرْكُمْ وَيُثَبِّتْ أَقْدَامَكُمْ

"হে বিশ্বাসীগণ! যদি তোমরা আল্লাহকে সাহায্য কর, আল্লাহ তোমাদেরকে সাহায্য করবেন এবং তোমাদের পা দৃঢ়প্রতিষ্ঠ করবেন।" (সূরা মুহাম্মদ: ৭)

তিনি আরও বলেন,

وَلَيَنصُرَنَّ اللَّـهُ مَن يَنصُرُهُ

"আল্লাহ নিশ্চয়ই তাদেরকে সাহায্য করবেন, যারা আল্লাহর সাহায্য করে।" (সূরা হজ্জ: ৪০)


❖ ৭) পূর্বসূরি তথা রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ও সাহাবিদের জীবনী অধ্যয়ন করা এবং এ বিষয়ে জ্ঞানার্জন করা যে, তারা কিভাবে তৎকালীন পরাশক্তিগুলোকে পদানত করে ইসলামের বিজয় পতাকা উড্ডীন করেছিলেন। সেই সাথে যুগে যুগে ইসলামের বিজয় ইতিহাস অধ্যয়ন করা এবং সেগুলো থেকে শিক্ষা ও অনুপ্রেরণা নেয়া।

আল্লাহ তাআলা বলেন,

أُولَـٰئِكَ الَّذِينَ هَدَى اللَّـهُ ۖ فَبِهُدَاهُمُ اقْتَدِهْ

"এরা এমন ছিল, যাদেরকে আল্লাহ পথ প্রদর্শন করেছিলেন। অতএব, আপনিও তাদের পথ অনুসরণ করুন।" (সূরা আন‌আম: ৯০)


❖ ৮) যুগ পরিক্রমায় বিভিন্ন সময় যে সব কারণে মুসলিমগণ পরাজিত হয়েছে, রাজ্য হারিয়েছে বা তাদের অধঃপতন ঘটেছে সেগুলোর ইতিহাস জানা এবং সেখান থেকে শিক্ষা গ্রহণ করা। 

প্রকৃতপক্ষে যে জাতি তাদের পূর্বসূরিদের ইতিহাস জানে না, যাদের শিকড়ের সাথে সম্পর্ক নেই তারা কখনো উন্নত হতে পারে না।


❖ ৯) বর্তমান সময়ে বিশেষ করে মুসলিম যুবক-যুবতী ও নারীদের নৈতিক স্খলন ঘটানো ও তাদেরকে বিপথগামী করার সুদূর প্রসারী নানামুখী ষড়যন্ত্র, ধ্বংসের সুপরিকল্পিত নীল নকশা ও অপ তৎপরতা থেকে রক্ষা করত: তাদেরকে সঠিক ও কল্যাণের পথে পরিচালনা করার জন্য বাস্তবমুখী কর্মসূচী ও উদ্যোগ গ্রহণ করা।


❖ ১০) ইসলামকে বিশ্বের নেতৃত্বে প্রতিষ্ঠিত করতে ইসলামি শরিয়া ও বৈষয়িক উভয় ক্ষেত্রে শিক্ষা-দীক্ষা ও জ্ঞানের জগতে উন্নতির উচ্চ শিখরে আরোহণের বিকল্প নেই। তৎসঙ্গে মুসলিমদেরকে শুদ্ধ ইসলামি সংস্কৃতি, শিল্পকলা, জ্ঞান-গবেষণা, বিজ্ঞান চর্চা, আবিষ্কার ইত্যাদি ক্ষেত্রে তাদের পূর্বপুরুষদের মত পুনরায় অবদান রাখতে হবে। অন্যথায় তাদেরকে ভিখারির মত অন্যদের দিকে চেয়ে থাকতে হবে। এভাবে কখনো বিজয়ী হওয়া সম্ভব নয়।


পরিশেষ দুআ করি, আল্লাহ তাআলা মুসলিমদেরকে সকল পাপাচার ও অন্যায়-অবিচার থেকে রক্ষা করুন, তাদের মধ্যে ঈমানের অগ্নিস্ফুলিঙ্গ প্রজ্বলিত করুন, এবং অলসতা, অকর্মণ্যতা, দুর্বলতা ও হীনমন্যতাকে বিদায় করে তাদের হৃদয়ে শক্তি ও সাহসের বহ্নিশিখা জ্বালিয়ে দিন এবং পরিশুদ্ধ জ্ঞান, উন্নত সভ্যতা এবং আকর্ষণীয় চরিত্র মাধুরী দ্বারা মানুষের হৃদয় রাজ্য জয় করার তাওফিক দান করুন। আমিন।

▬▬▬▬◐◯◑▬▬▬▬▬

লেখক:

মুফতী মুহাম্মাদ আল-মাদানী

— আরবী সাহিত্য বিভাগ 

 🌸 জামিয়া ইসলামিয়া মুহাম্মাদিয়া দারুল উলূম ঢাকা 🌹

Thursday, April 10, 2025

 

প্রত্যেক মুসলমানের একবার হলেও 
শোনা উচিৎ এই লেকচার 
জীবন পরিবর্তন করা কিছু কথা|

প্রফেসর মোক্তার আহমেদ


Wednesday, April 9, 2025




শীঘ্রই ইমাম মাহদীর আগমন মিলে যাচ্ছে 

নবীজির ভবিষ্যদ্বাণী
মুফতি আরিফ বিন হাবিব Arif Bin Habib


 

গাজার জন্য পদযাত্রা 


সময় ও স্থান:১২ এপ্রিল, শনিবার | বিকাল ৩টা শাহবাগ থেকে মানিক মিয়া এভিনিউ

   


গা*জা*র নিরীহ, নিরস্ত্র,নিরাপরাধ মানুষের ওপর চলমান গ*ণহ*ত্যা*র বিরুদ্ধে আমাদের হৃদয় আজ ভারাক্রান্ত। প্রতিদিনের নিষ্পাপ শিশুদের আর্তনাদ, মায়েদের বিলাপ, এবং পিতাদের অসহায়ত্ব- আমাদের বুকের ভেতর আজ শুধু আ*গুন, দু আঁখিতে  আশ্রুর প্লাবন। 


অবিচার ও নৃশংসতার বিরুদ্ধে আওয়াজ তুলতে- 

আগামী শনিবার, বিকাল ৩টায় শাহবাগ থেকে মানিক মিয়া এভিনিউ পর্যন্ত 'মার্চ ফর গা*জা' শিরোনামে একটি প্রতিবাদ কর্মসূচী অনুষ্ঠিত হবে। এই কর্মসূচীতে  অংশগ্রহণের মাধ্যমে আমরা গা*জার নির্যাতিত মানুষের প্রতি আমাদের সমর্থন ও সংহতি প্রকাশ করবো। তাদের কষ্টের ভাগীদার হয়ে, তাদের পাশে দাঁড়িয়ে আমরা বিশ্বকে জানিয়ে দেবো যে, মানবতার বিরুদ্ধে কোনো অন্যায় আমরা মেনে নেবো না।


আমাদের এই সংহতি ও সমর্থন তাদের সংগ্রামে শক্তি যোগাবে এবং বিশ্বকে মানবতার পক্ষে দাঁড়ানোর আহ্বান জানাবে।


এই পদযাত্রা- মজলুমের জন্য আমাদের হৃদয়ের স্পন্দন, ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়া মানবতার জাগ্রত চিৎকার। 


আসুন, কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে - আমরা সবাই একসঙ্গে এই কর্মসূচীতে অংশগ্রহণ করি এবং গা*জার নির্যাতিত মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে তাদের ন্যায্য অধিকারের জন্য আওয়াজ তুলি। গ*ন*হ*ত্যার বিরুদ্ধে, জুলুমের কালো থাবা থামিয়ে দিতে- আমাদের হাঁটতে হবে একসাথে।

ফি আমানিল্লাহ।

  🌙 মক্কা থেকে নবীজি ﷺ–এর মদিনায় আগমনের ইতিহাস একটি আলো–আগমনের গল্প মদিনার আকাশ সেদিন যেন অন্যরকম আলোয় দীপ্ত হচ্ছিল। বাতাসে ছিল এমন এক প্...