Thursday, December 4, 2025

 
🌙 মক্কা থেকে নবীজি ﷺ–এর মদিনায় আগমনের ইতিহাস





একটি আলো–আগমনের গল্প


মদিনার আকাশ সেদিন যেন অন্যরকম আলোয় দীপ্ত হচ্ছিল। বাতাসে ছিল এমন এক প্রশান্তি—যেন শহরটি বহু যুগ ধরে অপেক্ষা করছে তার প্রিয়তম অতিথি, বিশ্বনবী মুহাম্মদ ﷺ–কে বরণ করার জন্য।

প্রতিটি রাস্তা, প্রতিটি উঠোন, প্রতিটি মানুষের হৃদয়—সবাই প্রস্তুত ছিল হিজরতের ইতিহাসময় সেই মুহূর্তকে স্বাগত জানানোর জন্য।


🌙 মক্কার বিদায় — হিজরতের কঠিন সিদ্ধান্ত


মক্কার ভূমিতে অত্যাচার এমন পর্যায়ে পৌঁছেছিল যে আল্লাহ তাআলা তাঁর প্রিয় রাসূল ﷺ–কে হিজরতের অনুমতি দিলেন।

মুসলমানরা ইতিমধ্যে দলে দলে মদিনায় চলে গেছেন; কিন্তু নবীজি ﷺ অপেক্ষা করছিলেন আল্লাহর নির্দেশের।


এক রাত, অন্ধকার নেমে আসলে,

নবীজি ﷺ তাঁর ঘর থেকে বের হয়ে সহচর আবু বকর সিদ্দীক (রাঃ)-এর সাথে গার-এ-সাওর গুহায় আশ্রয় নিলেন।


তিন দিন তিন রাত—

বাহিরে কাফিরদের তীব্র অনুসন্ধান,

আর গুহার ভেতরে ছিল আল্লাহর রহমত, শান্তি ও নিরাপত্তা।


কুরআনে এ সম্পর্কে আল্লাহ তাআলা বলেন—

> إِذۡ يَقُولُ لِصَاحِبِهِۦ لَا تَحۡزَنۡ إِنَّ ٱللَّهَ مَعَنَا

“তিনি তাঁর সাথীকে বললেন: ভয় পেয়ো না, নিশ্চয়ই আল্লাহ আমাদের সঙ্গে আছেন।”

(সূরা আত-তাওবা ৯:৪০)


এই আয়াত আজও ঈমানীদের হৃদয়ে নিরাপত্তা ও তাওয়াক্কুলের মশাল হয়ে আছে।


🐪 মদিনার পথে দীর্ঘ যাত্রা


গার-এ-সাওর থেকে বের হয়ে শুরু হলো প্রায় ৪০০ কিলোমিটারের দীর্ঘ যাত্রা—

মরুভূমির উত্তপ্ত বালু, খাড়া পাহাড়, অনাবাদি নির্জন পথ।


নবীজি ﷺ এই দীর্ঘ সফরে মাঝে মাঝে কুরআন তিলাওয়াত করতেন;

আর আবু বকর (রাঃ) কখনো সামনে, কখনো পিছনে, কখনো ডান পাশে—

শুধু একটাই শঙ্কা:

“রাসূলুল্লাহ ﷺ যেন কোনো বিপদে না পড়েন।”


এ যাত্রায় একটি অবিস্মরণীয় ঘটনা হলো—

আসমা বিনতে আবু বকর (রাঃ)-এর ত্যাগ ও সাহস।

তিনি রাতে খাবার পৌঁছে দিতেন, কাপড়ের টুকরো ছিঁড়ে আঁট বানিয়েছিলেন।

সেই দৃশ্য দেখে নবীজি ﷺ তাঁর জন্য দোয়া করেছিলেন—

আর ইতিহাস তাঁকে নামে চেনে “জ়াতুন নিতাকাইন”—দুই আঁটের মালিক মহিলা।


🌴 মদিনার অপেক্ষা — প্রতিটি দিন আশা ভরা


মদিনার আনসাররা প্রতিদিন সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত শহরের বাইরে এসে দাঁড়াতেন—

শুধুমাত্র এক ঝলক দেখার জন্য,

“আজ কি আমাদের প্রিয় নবীজি ﷺ আসবেন?”


শিশুরা খেলতে খেলতে বলত—

“হয়তো আজ! হয়তো আজ সেই মহান দিন!”


পুরো শহর ছিল আকুল প্রতীক্ষায়।


🌟 অবশেষে আগমনের মহিমান্বিত মুহূর্ত


অবশেষে একদিন দূর থেকে দেখা গেল একদল যাত্রী—

ধুলোয় ভরা শরীর, কিন্তু মুখে নূরের জ্যোতি।


আনসাররা দৌড়ে খবর দিল—

“তিনি এসেছেন! তিনি এসেছেন!”


মদিনার রাস্তাগুলো আনন্দে কেঁপে উঠল।

নারীরা ছাদে উঠলেন সাহাবায়াতের সেই কালজয়ী তাক্ববিরধ্বনি ও শোকরগাথা সুর নিয়ে—

> طَلَعَ البَدْرُ عَلَيْنَا

“চাঁদ আমাদের ওপর উদিত হয়েছে—সেই পূর্ণিমার চাঁদ!”


শিশুরা উল্লাসে ছুটল,

পুরুষরা অশ্রুসিক্ত চোখে নবীজি ﷺ–কে দেখতে ছুটল।

সেই দিন যেন মদিনার প্রতিটি ইট, প্রতিটি গাছ, প্রতিটি বাতাস আনন্দে কম্পমান ছিল।


🕌 মদিনার পথে প্রথম বিরতি — মসজিদে কুবা


মদিনায় প্রবেশের আগে নবীজি ﷺ কুবা নামক স্থানে পৌঁছালেন।

সেখানে তিনি চার দিন অবস্থান করেন এবং সাহাবাদের সাথে মিলিত হয়ে নির্মাণ করেন—


ইসলামের প্রথম মসজিদ — মসজিদে কুবা


হাদিসে এসেছে—


> “যে ব্যক্তি কুবা মসজিদে এসে দুই রাকাত নামাজ পড়ে, সে একটি উমরাহর সমান প্রতিদান পায়।”

(তিরমিযী, নাসায়ী)


এই মসজিদে ছিল মুহাজির ও আনসারদের অদম্য ভালোবাসা, ঐক্য ও ত্যাগ।


🏠 মদিনায় প্রবেশ — নতুন যুগের সূচনা


মদিনার ভেতরে প্রবেশ করলে মানুষ নবীজি ﷺ–এর উটনীর লাগাম ধরতে চাইত।

প্রত্যেকে চাইত—

“রাসুল ﷺ আমাদের ঘরেই থাকুন!”


কিন্তু নবীজি ﷺ বললেন—

> “উটনীকে ছেড়ে দাও। সে আল্লাহর নির্দেশেই চলবে।”


অবশেষে উটনী থামল আবু আইয়ুব আনসারি (রাঃ)–এর দরজায়।

সেই ঘরেই নবীজি ﷺ প্রথম অবস্থান করেন।

সেখান থেকেই শুরু হয়—


✨ ইসলামের রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা


✨ ভ্রাতৃত্বের ঘোষণা (মুয়াখাত)


✨ মসজিদে নববীর নির্মাণ


✨ ইমানভিত্তিক সভ্যতার সূচনা


মদিনা সেদিন শুধু একজন মানুষকে বরণ করেনি—

বরণ করেছিল আলো, সত্য, রহমত, এবং সমগ্র মানবতার দিশারিকে।


📌 হিজরতের আগমন—যা প্রতিষ্ঠা করল


✔ মুসলমানদের নিরাপত্তা


✔ ইসলামের স্বাধীন চর্চার সুযোগ


✔ প্রথম ইসলামী রাষ্ট্রের ভিত্তি


✔ নতুন সভ্যতার জন্ম


✔ দুনিয়ার মানচিত্র বদলে যাওয়ার ঘোষণা


হিজরত ছিল ক্যালেন্ডারের পরিবর্তন নয়—

সম্পূর্ণ মানবজাতির ভাগ্য পরিবর্তনের সূচনা

Thursday, November 27, 2025

 
Welcome to my website.

 


US Barnaby Moose and the Great 50-State Sandwich

Once upon a time, deep in the piney woods of Maine, there lived a moose named Barnaby.

Barnaby was very large, very clumsy, and very hungry. He had antlers so wide that he often got stuck in doorways, and a nose so squishy it made a honk-shoo sound when he sneezed.

One Tuesday, Barnaby looked at his breakfast of twigs and moss.

"Boring," Barnaby grunted. "I want a sandwich. But not just any sandwich. I want the Greatest Sandwich in America!"

So, Barnaby packed his tiny suitcase (mostly full of napkins), put on his coolest sunglasses, and began to trot south.


Stop 1: The Big Apple (New York) 🍎
Barnaby arrived in New York City. He had never seen so many tall buildings! He looked up and saw a giant green lady holding a torch.

"Excuse me, ma'am!" Barnaby yelled to the Statue of Liberty. "Are you going to toast a giant marshmallow with that fire? Can I have some?"

She didn't answer (she was very focused on being statue-y), so Barnaby tried to take the subway.

CRUNCH. His left antler hit the turnstile.

BONK. His right antler hit the ticket booth.

SQUISH. He accidentally sat on a pigeon’s park bench. (The pigeon was not amused).

Barnaby decided to walk instead. He grabbed a Bagel as big as his hoof. "This is the bread for my sandwich!" he cheered.

Stop 2: The Windy City (Chicago) 🌭
Barnaby trotted all the way to the Midwest. The wind blew so hard in Chicago that Barnaby’s ears flapped like flags! Flap-flap-flap!

He found a hot dog stand. "I’ll take one pickle, please!" Barnaby said politely. The hot dog vendor looked at the giant moose. "Buddy, you can have the whole jar."

Barnaby put the giant pickle on his bagel. Now he had Bread and a Pickle. But he needed more!

Stop 3: The Big Cornfields (Nebraska)

url("https://static.xx.fbcdn.net/images/emoji.php/v9/t1c/1/16/1f33d.png"); background-size: 16px 16px; cursor: default; white-space-collapse: preserve;">🌽
Barnaby walked through miles and miles of corn. He thought the cornstalks were people.

"Hello! Nice hair!" he said to a stalk of corn. "Lovely weather!" he said to another. "Why are you all ignoring me?"

Finally, a friendly farmer gave him a giant scoop of Corn Relish. "For the sandwich!" Barnaby shouted. He balanced the relish on the pickle, on the bagel, on his nose.

Stop 4: The Lone Star State (Texas) 🤠
By the time Barnaby hit Texas, he was sweating. He needed something spicy. He found a cowboy eating barbeque.

"Howdy partner!" Barnaby tried to say, but it came out as "MOOOOOOO-dy partner!" because he was a moose.

The cowboy laughed and tossed him a giant, spicy Jalapeño pepper. Barnaby caught it in his teeth. CHOMP. Suddenly, steam shot out of Barnaby’s ears like a train whistle! WOOO-WOOO! It was the perfect spicy kick for the Great American Sandwich.

Stop 5: The Sunny Coast (California) 🏖️
Finally, Barnaby reached the ocean. He saw surfers riding the waves. He saw palm trees. He saw... Avocados!

He squished a ripe, green avocado right on top of his tower of food.

Barnaby sat on the warm sand of the beach. He looked at his masterpiece:

A New York Bagel

A Chicago Pickle

Nebraska Corn Relish

A Texas Jalapeño

A California Avocado

He opened his giant moose mouth. He took a massive bite. CRUNCH. SLURP. MUNCH.

"Mmm," Barnaby smiled, getting crumbs all over his fur. "It tastes like... adventure."

And then, because he was very full and very happy, Barnaby fell asleep right there on the beach, snoring his funny moose snore (Honk-shoo! Honk-shoo!), dreaming of where to go for dessert.

atOptions = { 'key' : '42a9382422ddeb6791373ce796d14ac5', 'format' : 'iframe', 'height' : 50, 'width' : 320, 'params' : {} };

url("https://static.xx.fbcdn.net/images/emoji.php/v9/tc6/1/16/1f680.png"); background-size: 16px 16px; cursor: default; white-space-collapse: preserve;">🚀 Barnaby Moose: Moonwalker
Barnaby Moose, with his nose so wide, Decided to take a rocket ship ride! He squeezed in his tummy, he tucked in his knees,

"I'm going to the Moon to find some cheese!"

3 - 2 - 1... BLAST OFF! He zoomed past the stars, He waved at Venus and honked at Mars. But when he landed and stepped on the ground, He bounced like a bunny—boing all around!

His antlers got stuck in a satellite dish, He floated and swam like a big jelly-fish. He licked a moon rock, but it tasted like dust, "Oh dear," said the Moose, "This trip is a bust!"

"No cheddar? No swiss?" He scratched at his head, "I think I'll go home for some pizza instead."

So he hopped in his ship and flew back to town, The only astronaut Moose to ever touch down. And if you look up at the moon in the night, You might see his hoofprints, sparkling bright!


Thank you very much for your valuable time.

 

 উপমহাদেশের প্রথম হাদীছচর্চা কেন্দ্র

   ফিরে দেখা পূর্ব পুরুষদের সোনালী অতীত   


বাংলার হাদীস–সভ্যতার হারিয়ে যাওয়া এক বিশাল অধ্যায়


বাংলা মুসলমানদের অতীত কখনোই অন্ধকার ছিল না—বরং ছিল আলোকোজ্জ্বল জ্ঞানচর্চা, দাওয়াহ, ফিকহ, হাদীস ও বুদ্ধিবৃত্তিক বিকাশের এক সুবর্ণ যুগ। আজ থেকে প্রায় সাড়ে সাতশ’ বছর আগে, যখন বাঙালি মুসলমান সমাজের সাংস্কৃতিক রূপায়ণও পুরোপুরি সুসংহত হয়নি, তখনই এই ভূমিতে গড়ে ওঠে বিশ্বমানের হাদীস শিক্ষা কেন্দ্র। এমন এক সময়ে, যখন বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে ইলমে-হাদীসের তারকারা ক্রমান্বয়ে উদিত হওয়া শুরু করেছেন, ঠিক তখনই এই বাংলার বুকে বসে হাদীস পড়াতেন এক বিশ্বমানের মুহাদ্দিস—


ইমাম আল্লামা শরফুদ্দীন আবু তাওয়ামা রাহিমাহুল্লাহ।


🕌 বাংলায় হাদীস দরসের শুরু: ইবনে হাজারের জন্মেরও ১০০ বছর আগে!


ইমাম ইবনে হাজার আসকালানী (রাহ.)—যিনি ১৩৭২ খ্রিষ্টাব্দে কায়রোতে জন্মগ্রহণ করেন—তাঁর জন্মের পুরো এক শতাব্দী আগে, অর্থাৎ ১২৭২ সালের দিকে, বাংলায় নিয়মিতভাবে হাদীসের দরস অনুষ্ঠিত হতো। ছাত্র সংখ্যা ছিল চার-পাঁচশ নয় বরং প্রায় ১০,০০০ শিক্ষার্থী। সুদূর বোখারা, কান্দাহার, খোরাসান, সিরিয়া, ইয়েমেন, বিহার,

দাক্ষিণাত্য এসব অঞ্চলের ইলমপিপাসুরা দলে দলে বাংলায় ছুটে আসতেন। ভাবুন! যে বাংলাকে আমরা আজও ইসলামী শিক্ষার ‘পেরিফেরি’ মনে করি—সেই বাংলা তখন বিশ্বমানের ছাত্র-শিক্ষকের সমাবেশস্থল ছিল।


এই দরসে হাদীস পড়ানো হতো সহীহুল বুখারী, সহীহ মুসলিম, এবং বিখ্যাত মুসনাদে আবু ইয়ালা থেকে।

অর্থাৎ বাংলার শিক্ষা কোনোক্রমেই উপশহুরে বা প্রাথমিক স্তরের ছিল না—বরং ছিল গবেষণা পর্যায়ের।


📚 বাংলার প্রথম মুহাদ্দিস: শরফুদ্দীন আবু তাওয়ামা (রাহ.)


তিনি ছিলেন এই অঞ্চলের প্রথম যুগের মুহাদ্দিস, যিনি আন্তর্জাতিক মানের হাদীস-শিক্ষা কেন্দ্র স্থাপন করেন। তাঁর পরিচয় শুধু একজন শিক্ষক নয়, তিনি ছিলেন বাংলায় হাদীস–সভ্যতার ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনকারী একজন ইমামুল মুহাদ্দিসীন।


▣ দিল্লিতে ১০ বছরের অধ্যাপনা


বাংলায় আগমনের পূর্বে তিনি দিল্লির বড় বড় মাদরাসায় টানা ১০ বছর দারস ও তাদরীসে নিয়োজিত ছিলেন। তাঁর জ্ঞানের খ্যাতি দিল্লি থেকে ছড়িয়ে পড়ে সারা ভারত উপমহাদেশে।


🕌 সোনারগাঁয়ে প্রতিষ্ঠিত তাঁর “ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়”


বাংলার ঐতিহাসিক রাজধানী সোনারগাঁয়ে তিনি প্রতিষ্ঠা করেন তাঁর সুবিশাল দারুল-ইলম। এটি ছিল আধুনিক অর্থে একটি পূর্ণাঙ্গ ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়।


📘 সিলেবাস ও কারিকুলাম ছিল বহুমাত্রিক ও উন্নতমানের:


হাদীস, ফিকহ, আরবি সাহিত্য, যুক্তিবিদ্যা, ইতিহাস,অলংকারশাস্ত্র, প্রাকৃতিক বিজ্ঞান (Physics), রসায়ন (Chemistry), থিউলজি (Aqidah ও Kalam)


অর্থাৎ এটা ছিল দ্বীনি ও দুনিয়াবি জ্ঞানের অনবদ্য সমন্বয়, ঠিক যেমন মদিনার, বুখারার বা বাগদাদের প্রাচীন দারুল-ইলমগুলোতে দেখা যেত।


আজ আমরা যাকে “ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়” ধারণা বলি—আবু তাওয়ামা (রাহ.) তা প্রতিষ্ঠা করেছিলেন ১৩শ শতকেই।


🌏 বাংলায় হাদীসের দরস চলছিল যখন…


দামেশকে তখন শুরু হয়েছে ইমাম ইবনে তাইমিয়া (রাহ.)-এর মহাদরস।


স্পেনের কার্ডোভায় চলছিল ইমাম কুরতুবী (রাহ.)-এর তাফসীরের সুবিশাল আলোচনা।


তখনও জন্মগ্রহণ করেননি, ইমাম যাহাবী (রাহ.), ইমাম ইবনুল কাইয়্যেম (রাহ.) কিংবা আরও বহু উলামায়ে কিরাম…


অর্থাৎ বাংলার ভূমি ইলমের দৌড়ে কোনো অংশেই পিছিয়ে ছিল না; বরং বিশ্বমানের শিক্ষার ধারায় এক উজ্জ্বল অবস্থান ধরে রেখেছিল।


🕌 আজও দাঁড়িয়ে আছে তাঁর বিশ্ববিদ্যালয়ের ধ্বংসাবশেষ


সোনারগাঁয়ের নিঃশব্দ নিসর্গে আজও দাঁড়িয়ে আছে তাঁর সেই শিক্ষা নগরী। কিন্তু নেই সেই প্রাঞ্জল কণ্ঠের দরস, নেই ছাত্রদের গমগম শব্দ, নেই কুরআন-হাদীসের অনুরণন।


ইতিহাসের বুকে তা রয়ে গেছে চাপা স্মৃতি, কিন্তু আমাদের সমাজের স্মৃতিতে রক্ষা পায়নি। তাঁর নামে কোনো প্রতিষ্ঠান নেই, নেই কোন গবেষণা কেন্দ্র, নেই পাঠ্যপুস্তকে তাঁর নাম।


বাংলার প্রথম মুহাদ্দিস যার, তাঁর স্মৃতি আজ আমাদের কাছে প্রায় হারিয়ে যাওয়া এক রত্ন।


🌟 শরফুদ্দীন আবু তাওয়ামা (রাহ.)—বাংলার বুদ্ধিবৃত্তিক জাগরণের পথিকৃৎ, তিনি ছিলেন, তীক্ষ্ণ বুদ্ধির, গভীর প্রজ্ঞার, অসাধারণ পরিকল্পনাশক্তির অধিকারী। তাঁর ইলম, দাওয়াহ, কারিকুলাম, চিন্তা ও সংস্কার—সবকিছুই বাঙালি মুসলমান সমাজে আলোকধারার মতো ছড়িয়ে পড়ে। তাঁর হাতে গড়ে ওঠে এমন একটি জ্ঞানসমাজ, যার আলো আজও নিভে যায়নি—যদিও আমরা তাঁর নাম ভুলে গেছি।


🖼️ সোনারগাঁও ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের এক বিরল ছবি


এই বাংলায় হাদীস শিক্ষার স্বর্ণযুগের সাক্ষী শাইখ শরফুদ্দীন আবু তাওয়ামা (রাহ.) কর্তৃক প্রতিষ্ঠিত সোনারগাঁও ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় এর একটি দুর্লভ ছবি নিচে উপস্থাপিত হলো।


📢 শেষ কথা: আমাদের কি করা উচিত?


বাংলার এই সোনালী হাদীস–ইতিহাসকে নতুন প্রজন্মের সামনে তুলে ধরা আমাদের দায়িত্ব। তাঁর নামে গবেষণা প্রতিষ্ঠান, মাদরাসা বা লাইব্রেরি প্রতিষ্ঠা করা এখন সময়ের দাবি।


এ জাতি যে ইলমের আলোয় আলোকিত ছিল—তা নতুন প্রজন্মকে জানাতে হবে।


মহান আল্লাহ তা’য়ালা আমাদের সকলকে কবুল করুন। আমিন ইয়া রাব্বাল আলামিন।

Tuesday, November 25, 2025

 


নবী–রাসূলগণ মাসূম এবং সাহাবায়ে কেরামগণ সত্যের মাপকাঠি।


— কুরআন, সহীহ সুন্নাহ ও ঐতিহাসিক দলীলসমূহের আলোকে


প্রস্তাবনা


ইসলাম এমন একটি পূর্ণাঙ্গ দ্বীন যেখানে আল্লাহ তাআলা সত্যকে স্পষ্ট করে দিয়েছেন এবং সেই সত্যের রক্ষণাবেক্ষণের জন্য নির্বাচিত করেছেন মাসূম নবী–রাসূল এবং তাঁদের পথে চলা বিশ্বস্ত সাহাবায়ে কেরামকে।

বিশ্বব্যবস্থায় সত্য–মিথ্যার পার্থক্য নির্ণয়ে যদি কোন যুগে সর্বোত্তম মানদণ্ড থাকে, তা হলো ওহীর আলোকে পরিচালিত নবী–রাসূলগণ এবং তাদের সরাসরি শিক্ষা ও সঙ্গ লাভকারী সাহাবাগণ।


প্রথম অধ্যায়: নবী–রাসূলগণের মাসূমিয়্যত


১. মাসূম (معصوم) অর্থ


মাসূম অর্থ: আল্লাহর পক্ষ থেকে সুরক্ষাপ্রাপ্ত; বড় বড় পাপ, কুফর, শিরক, ভুল আকীদা, শরীয়ত বিরোধী কাজে লিপ্ত হওয়া থেকে আল্লাহর বিশেষ হেফাজতে থাকা।


কেন প্রয়োজন?


যেহেতু নবী–রাসূলগণ মানুষকে আল্লাহর বাণী পৌঁছান, তাই তাঁদের ভুলে–বশত সত্য নষ্ট হলে দীন নষ্ট হয়ে যেত। এজন্যই আল্লাহ তাঁদেরকে ওহীর তত্ত্বাবধানে সম্পূর্ণরূপে সুরক্ষিত রেখেছেন।


২. কুরআন থেকে দলীল


(১) আল্লাহর নির্দেশ: নবী ভুল বলেন না

> وَمَا يَنطِقُ عَنِ الْهَوَى، إِنْ هُوَ إِلَّا وَحْيٌ يُوحَى

(সূরা নজম, ৩–৪)

অর্থ: তিনি নিজের ইচ্ছায় কিছু বলেন না—এটা ওহী ব্যতীত কিছু নয়।

➡ প্রমাণ: রাসূল ﷺ-এর কথা ওয়হীর আলোতে সঠিক—এতে ভুল বা ব্যত্যয় নেই।


(২) আল্লাহ সরাসরি তত্ত্বাবধান করেন

> اللَّهُ يَعْصِمُكَ مِنَ النَّاسِ

(সূরা মায়িদা, ৬৭)

অর্থ: আল্লাহ আপনাকে মানুষ থেকে রক্ষা করবেন।

➡ অর্থ: তাবলীগে, শরীয়তে কোনো ভুল যেন না ঘটে, আল্লাহ তা নিশ্চিত করেছেন।


(৩) নবীর অনুসরণ মানেই হেদায়েত

> وَإِن تُطِيعُوهُ تَهْتَدُوا

(সূরা নূর, ৫৪)

অর্থ: তোমরা তাঁকে মানলে অবশ্যই পথপ্রাপ্ত হবে।

➡ যদি নবী ভুল করতেন, তবে তাঁর আনুগত্য থেকে হেদায়েত আসত না।


৩. হাদীস থেকে দলীল


(১) রাসূল ﷺ নিজেকে ভুল থেকে মুক্ত বলেছেন

> “নিশ্চয়ই আমাকে আমার প্রতিপালক শিখিয়েছেন এবং উত্তম শিক্ষা দিয়েছেন।”

— (হাকিম, আল-মুস্তাদরাক, ২/৬১৩)


(২) রাসূল ﷺ বলেন: উম্মত কখনো একত্র হয়ে ভুলের উপর সম্মত হবে না

— (ইবনে মাজাহ, হাদিস ৩৯৫০)


এ সত্য তখনই প্রতিষ্ঠিত হয় যখন উম্মতের সর্বপ্রথম ও সর্বোত্তম অংশ সাহাবায়ে কেরাম সম্পূর্ণ বিশ্বস্ত ও সত্যনিষ্ঠ।


দ্বিতীয় অধ্যায়: সাহাবায়ে কেরাম—সত্যের মাপকাঠি (الصحابة معيار الحق)


১. সাহাবা কেন সত্যের মানদণ্ড?


(১) তাঁরা সরাসরি নবী ﷺ-এর শিক্ষা পেয়েছেন


সাহাবাগণ ছিলেন ওহীর যুগের মানুষ। যে দীন আল্লাহ নাজিল করেছেন, তার প্রথম বাস্তব প্রত্যক্ষকারী এঁরা।


(২) তাঁদের ঈমান ও চরিত্র আল্লাহ স্বয়ং প্রশংসা করেছেন


২. কুরআনের দলীল


(১) আল্লাহ তাঁদের জন্য সন্তুষ্টি ঘোষণা করেছেন

> وَالسَّابِقُونَ الْأَوَّلُونَ… رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُمْ وَرَضُوا عَنْهُ

(সূরা তাওবা, ১০০)

➡ আল্লাহ যাঁদের উপর সন্তুষ্ট—তাঁরা সত্যের মানদণ্ড না হলে কে হবে?


(২) আল্লাহ তাঁদেরকে নক্ষত্রের সাথে তুলনা করেছেন (ইশারা)

> كُنْتُمْ خَيْرَ أُمَّةٍ

(সূরা আলে ইমরান, ১১০)

➡ উম্মতের শ্রেষ্ঠ প্রজন্ম সাহাবাগণ।


৩. হাদীসের দলীল


(১) রাসূল ﷺ বলেন: আমার সাহাবাদের সম্মান রক্ষা করো


> “আমার সাহাবাগণকে গালি দিও না। আমার প্রাণ যার হাতে, তোমাদের কেউ যদি উহুদ পর্বতের সমপরিমাণ সোনা দান করে, তবুও তাদের একজনের এক মুঠো বা অর্ধেক মুঠো দানের সমান হবে না।”

— সহীহ বুখারি (৩৬৭৩)


➡ কারণ: তাঁদের আমল–নিষ্ঠতা সরাসরি নুবুওতের তত্ত্বাবধানে গঠিত।


(২) সহীহ পথ: সাহাবাদের পথ

> “আমার উম্মত ৭৩টি দলে বিভক্ত হবে। একটি দল নাজাত পাবে—

যারা আমার এবং আমার সাহাবাদের পথ অনুসরণ করবে।”

— তিরমিজি (২৬৪১)


➡ হক পথের মানদণ্ড = নবীর পথ + সাহাবাদের পথ।


তৃতীয় অধ্যায়: আকীদাহ ইমামদের বক্তব্য


১. ইমাম তহাবী (رحمه الله)

> “নবীগণ ভুল, ভুলোমতি এবং অপরাধ থেকে মাসূম।”

— আকীদাহ তহাবিয়্যাহ


২. ইমাম নওবী (رحمه الله)

> “সাহাবাদের প্রতি সন্দেহকারী ব্যক্তি ইসলাম থেকে বিপথগামী।”

— শরহ মুসলিম, ভূমিকা


৩. ইবনে তাইমিয়্যা (رحمه الله)

> “সাহাবাদের অনুসরণ করাই সত্যের মানদণ্ড।”

— মিনহাজুস সুন্নাহ (৪/৩৭৪)


চতুর্থ অধ্যায়: কেন নবী–রাসূল মাসূম না হলে দীন নষ্ট হয়ে যেত?


১. ভুল পয়গাম দীনকে বিকৃত করত


ইতিহাসে দেখা যায়—

● ইহুদিরা নবীদের ভুলের নামে বড় বড় মিথ্যা আরোপ করেছিল

● খ্রিস্টানরা ঈসা (আ.) সম্পর্কে ভুল বিশ্বাস গঠন করেছিল


ইসলামে তাই আল্লাহ নবীদেরকে ভুল থেকে সুরক্ষিত রেখেছেন।


২. সাহাবারা সত্য না হলে হাদীস–তাফসীর নষ্ট হয়ে যেত


হাদীস, তাফসীর, ফিকহ—সবকিছু সাহাবাদের মাধ্যমেই এসেছে।

তাঁরা যদি সত্যনিষ্ঠ না হতেন, তাহলে পুরো শরীয়তের ভিত্তি ধ্বংস হয়ে যেত।


পঞ্চম অধ্যায়: উপসংহার


নবী–রাসূলগণের মাসূমিয়্যত এবং সাহাবায়ে কেরামের সত্যনিষ্ঠা ইসলামের ভিত্তি।

নবীগণ সত্যের উৎস

সাহাবাগণ সত্যের বাহক

এ দুটির সমন্বয়ে আজকের কুরআন–সুন্নাহ আমাদের কাছে বিশুদ্ধভাবে পৌঁছেছে।


যে ব্যক্তি সত্য খুঁজতে চায়—

সে নবী ﷺ-এর সুন্নাহ ও সাহাবাগণের পথ অনুসরণ করলেই সত্য পাবে।



মহান আল্লাহ তা’য়ালা আমাদের সকলকে কবুল করুন। আমিন ইয়া রাব্বাল আলামিন।




Friday, July 25, 2025

 




📘 বাংলাদেশে চিন্তাশীল ও ভারসাম্যপূর্ণ 

ইসলামি নেতৃত্ব তৈরির রূপরেখা


✍️ এক বুদ্ধিবৃত্তিক ইসলামি নবজাগরণের আহ্বান


পরিকল্পনা: গবেষণাভিত্তিক ও দাওয়াহমুখী চিন্তা

Thursday, July 17, 2025

 


একজন মুসলমানের দুনিয়া ও আখেরাতের 
কল্যাণের জন্য দ্বীনি জ্ঞান জানা অবশ্যই প্রয়োজন।


https://jannat24net.blogspot.com/


🌿 📖 জরুরত পরিমাণ দ্বীনি ইলম 🌿

✨ “طلب العلم فريضة على كل مسلم” ✨

অনুবাদ: “প্রত্যেক মুসলিমের জন্য ইলম অর্জন করা ফরজ।”

📚 – (ইবনু মাজাহ: ২২৪; সহীহ: আলবানী)


❓ “জরুরত পরিমাণ দ্বীনি ইলম” বলতে কী বোঝানো হয়েছে?


🔹 জরুরত পরিমাণ অর্থ হলো—

একজন মুসলমানের দুনিয়া ও আখেরাতের কল্যাণের জন্য যে পরিমাণ দ্বীনি জ্ঞান অবশ্যই জানা জরুরি, সেই সীমিত পরিমাণ ইলম।


💬 ইমাম গযালী (রহ.) বলেন:


> “যা না জানলে ইবাদত সহীহ হবে না, গুনাহ থেকে বাঁচা যাবে না, সে পরিমাণ ইলম প্রত্যেকের উপর ফরজ।”

📖 – (ইহইয়াউ উলূমিদ্দীন ১/৭)


🌟 জরুরত পরিমাণ দ্বীনি ইলমের (فريضة عين) তালিকা


🏵️ ১. আকীদার ইলম (বিশ্বাসের ইলম)


✅ কারণ: ঈমানের সঠিকতা ছাড়া কোনো আমল গ্রহণযোগ্য নয়।

📌 শিখতে হবে:


আল্লাহর উপর সঠিক ঈমান (তাওহীদ)


শির্ক, কুফর ও বিদ’আত থেকে বাঁচার উপায়


নবী (ﷺ)-এর উপর ঈমান ও তাঁর শিক্ষার প্রতি পূর্ণ অনুসরণ


ফেরেশতা, আখেরাত, ক্বদর (ভাগ্য) ইত্যাদির উপর সঠিক বিশ্বাস


📝 দলিল:

> قال النبي ﷺ:

“من مات وهو يعلم أن لا إله إلا الله دخل الجنة”

“যে ব্যক্তি এ জ্ঞান রাখে যে ‘আল্লাহ ছাড়া কোনো উপাস্য নেই,’ সে জান্নাতে প্রবেশ করবে।”

📚 – (মুসলিম: ২৬)


🏵️ ২. ইবাদতের ইলম


✅ কারণ: ইবাদত সঠিক না হলে ফরজ আদায় হবে না।

📌 শিখতে হবে:


নামাজের ফরজ, সুন্নাত, ওয়াজিব ও মাকরূহ বিষয়াবলী


রোযার বিধান ও ভঙ্গকারক বিষয়


যাকাতের হিসাব (যার উপর ফরজ)


হজ্জ-ওমরার বিধান (যাদের উপর ফরজ)


তহারাত: ওযু, গোসল, নাপাকী থেকে বাঁচার পদ্ধতি


📝 দলিল:

> قال النبي ﷺ:

“صلوا كما رأيتموني أصلي”

“তোমরা এমনভাবে নামাজ পড়বে, যেমন আমাকে নামাজ পড়তে দেখো।”

📚 – (বুখারী: ৬৩১)


https://www.profitableratecpm.com/rc2udrew?key=f3edbf16163c67e01c3b8d586170f55a 🏵️ ৩. হালাল-হারামের ইলম


✅ কারণ: জীবনের সকল কাজে শরীআতের অনুমোদন থাকা জরুরি।

📌 শিখতে হবে:


খাবার-পানীয়, পোশাক, লেনদেনের হালাল-হারাম


সুদ, ঘুষ, জুয়া, চুরি ইত্যাদি থেকে বাঁচার উপায়


বৈবাহিক সম্পর্ক, মিরাস (উত্তরাধিকার), সন্তান প্রতিপালন ইত্যাদির বিধান


📝 দলিল:

> قال النبي ﷺ:

“طلب العلم فريضة على كل مسلم”

“ইলম অন্বেষণ করা প্রত্যেক মুসলমানের উপর ফরজ।”

📚 – (ইবন মাজাহ: ২২৪; সহীহ)


🏵️ ৪. জীবনের অবস্থা অনুযায়ী বিশেষ ইলম


✅ কারণ: যার যা দায়িত্ব ও পেশা, সে বিষয়ে শরীয়তের বিধান জানা আবশ্যক।

📌 উদাহরণ:


ব্যবসায়ী: লেনদেন, সুদ, ইজারার বিধান


ডাক্তার: হারাম চিকিৎসা, নাজায়েয ওষুধ ব্যবহারের সীমা


শিক্ষক: ইসলামী আদর্শে শিক্ষাদান পদ্ধতি


📝 দলিল:

> قال عمر بن الخطاب رضي الله عنه:

“لا يبع في سوقنا إلا من قد تفقه في الدين”

“আমাদের বাজারে কেউ ব্যবসা করবে না, যতক্ষণ না সে দ্বীনের মাসআলা জানে।”

📚 – (মুয়াত্তা মালিক: ৯৮২)


✅ সংক্ষেপে


“জরুরত পরিমাণ দ্বীনি ইলম” মানে:

📌 ☑ ঈমান সঠিক রাখতে যা প্রয়োজন

📌 ☑ ফরজ ইবাদত শুদ্ধভাবে করতে যা প্রয়োজন

📌 ☑ গুনাহ থেকে বাঁচতে যা প্রয়োজন

📌 ☑ নিজের পেশার হালাল-হারাম বোঝার জন্য যা প্রয়োজন


🛑 এগুলো না শিখলে দায়িত্ব থেকে মুক্তি নেই।


🔖 আল্লাহ আমাদের সবাইকে এ ফরজে আইন ইলম অর্জন করার তাওফিক দান করুন। 🤲

Friday, May 2, 2025

 





মসজিদে দুনিয়াবি বিষয়ের পাঠ্য বই পড়া বা পড়ানোর বিধান

▬▬▬▬▬▬▬▬▬▬▬▬▬▬▬▬▬▬◐◯◑▬▬▬▬▬▬▬▬▬▬▬▬▬▬▬▬▬▬▬

প্রশ্ন: আমি এক ছাত্রকে মসজিদের ভিতরে গণিত ও পদার্থ পড়াই। এটা কি মসজিদের আদবের বরখেলাপ? এ সব দুনিয়াবি বিষয় কি মসজিদে কাউকে পড়ানো জায়েজ?

 

উত্তর:

মসজিদ প্রতিষ্ঠার মূল উদ্দেশ্য হল, এতে সালাত, কুরআন তিলাওয়াত-কুরআন পাঠ ও পঠন, ইলম চর্চা,  জিকির-আজকার, ইতিকাফ ইত্যাদি আল্লাহর ইবাদত-বন্দেগি করা। 


রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন,


إنما هي لذكر الله تعالى والصلاة، وقراءة القرآن


"নিশ্চয় মসজিদসমূহ আল্লাহর জিকির, কুরআন তিলাওয়াত ও সালাত আদায়ের জন্য।" (বুখারি ও মুসলিম-আনাস রা. হতে বর্ণিত)

 

তবে প্রয়োজনবোধে তাতে দুনিয়াবি উপকারী কাজ করা দোষণীয় নয়। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ও সাহাবিগণ বিভিন্ন সময় মসজিদে দুনিয়াবি কাজ করেছেন বলে হাদিস দ্বারা সাব্যস্ত হয়েছে। যেমন: খাওয়া-দাওয়া করা, ঘুমানো, জাহেলি যুগের কবিতা শোনা, সেনাবাহিনী প্রস্তুত ইত্যাদি।


عبدالله بن الحارث رضي الله عنه قال :كنَّا نأكُلُ علَى عَهدِ رسولِ اللَّهِ صلَّى اللَّهُ عليهِ وسلَّمَ في المسجِدِ الخبزَ واللَّحْمَ ص(حيح ابن ماجه الجزء أو الصفحة/2685)


 فد بوب الإمام البخاري في صحيح "باب نوم الرجال في المسجد" وأتى بحديث ابن عمر -رضي الله عنهما-: "أنه كان ينام وهو شاب أعزب لا أهل له في مسجد النبي -صلى الله عليه وسلم-"


 তাছাড়া মসজিদে পড়াশোনা করার কিছু উপকারিতাও আছে। এখানে বেশ কিছু ইবাদত করা সহজ হয়ে যায়। 

যেমন: পাক-পবিত্র থাকা, আজান দেয়া বা জবাব দেয়া, ওজুর পর দু রাকআত সালাত, জামাআতে তাকবিরে উলা (প্রথম তাকবির) এর সাথে সালাত, এক ওয়াক্ত সালাতের পর আরেক ওয়াক্ত সালাতের জন্য অপেক্ষা, মসজিদের ইমাম, মুয়াজ্জিন, অন্যান্য নামাজি দীনদার লোকদের সংস্পর্শে থাকা, বাইরের জগতের অশ্লীলতা-নোংরামি ও নানা পাপকর্ম থেকে আত্মরক্ষা ইত্যাদি।


যাহোক কতিপয় শর্তসাপেক্ষে মসজিদে দুনিয়াবি বিষয়ে পড়াশোনা করা এবং অন্যকে পড়ানো জায়েজ। সেগুলো হল:

 

✪ ১) যে সকল বিষয় পড়াশোনা করা হবে বা অন্যেকে পড়ানো হবে তাতে শরিয়া বিরোধী কোনও কিছু থাকা যাবে না। যেমন: পাঠ বইয়ে প্রাণীর ছবি, মেয়েদের বেপর্দা ছবি, শরিয়া বিরোধী বা অশ্লীল কোন গল্প-কবিতা, অংকের ক্ষেত্রে সুদের হিসাব কষা, শিরক-বিদআত পূর্ণ বই, পাশ্চাত্য দর্শন শাস্ত্র ইত্যাদি। এসব শর্ত সাপেক্ষে বাংলা সাহিত্য, ইংরেজি সাহিত্য, গ্রামার, গণিত, ভূগোল, ইতিহাস, বিজ্ঞান, কৃষি, অর্থনীতি, পদার্থ বিজ্ঞান, জীব বিজ্ঞান, রসায়ন ইত্যাদি বিষয় নিজে পড়া বা অন্যকে পড়ানোয় কোনও আপত্তি নাই ইনশাআল্লাহ।


✪ ২) মসজিদে কোন পুরুষ কর্তৃক কোনও মেয়েকে (পর্দা সহ হোক অথবা পর্দা ছাড়া হোক) অথবা ছেলেমেয়ে একসাথে পড়া বা পড়ানো জায়েজ নাই।


✪ ৩) মসজিদে প্রবেশ কালে ওজু করে এসে বসার পূর্বে দু রাকআত দুখুলুল মসজিদ/তাহিয়াতুল মসজিদ পড়া গুরুত্বপূর্ণ সুন্নত। হাদিসে দু রাকআত সালাত ছাড়া মসজিদে বসতে নিষেধ করা হয়েছে।


✪ ৪. হাদিসের আলোকে আজান হওয়ার পর মসজিদ থেকে বের হয়ে পুনরায় সালাতের জন্য ফিরে আসার নিয়ত ছাড়া বাইরে যাওয়া নিষিদ্ধ। (যেমন: ওজু, পেশাব-পায়খানা বা জরুরি কোনও কাজ ইত্যাদি)


✪ ৫. মসজিদের আদব রক্ষা করা জরুরি। সুতরাং মসজিদে অযথা হাসি-তামাশা, অশ্লীল কথাবার্তা, গান-বাজনা শোনা, তাতে দৌড়াদৌড়ি, দুষ্টামি এবং তাতে ময়লা-আবর্জনা ফেলা ইত্যাদি মসজিদের আদব পরিপন্থী।


✪ ৬. মসজিদে সালাত আদায়কারী, জিকির-আজকার ও তিলাওয়াত রত ব্যক্তিদেরকে বিরক্ত না করা।


✪ ৭. কাচা পিঁয়াজ-রসুন, বিড়ি-সিগারেট খেয়ে বা ময়লা-আবর্জনা ও দুর্গন্ধযুক্ত পোশাক পরে মসজিদে না আসা।


এসব শর্ত সাপেক্ষে মসজিদে দুনিয়াবি বিষয়ে পড়াশোনা করা বা অন্যকে করাতে কোনও আপত্তি নাই। কিন্তু বাস্তবতা হল, আমাদের দেশের স্কুল-কলেজের বই-পুস্তক ও সিলেবাসগুলো হারাম মুক্ত নেই বললেই চলে। আল্লাহ আমাদেরকে ক্ষমা করুন। আমিন। আল্লাহু আলাম


▬▬▬▬◐◯◑▬▬▬▬▬

উত্তর প্রদানে:

মুফতী মুহাম্মাদ আল-মাদানী

  🌙 মক্কা থেকে নবীজি ﷺ–এর মদিনায় আগমনের ইতিহাস একটি আলো–আগমনের গল্প মদিনার আকাশ সেদিন যেন অন্যরকম আলোয় দীপ্ত হচ্ছিল। বাতাসে ছিল এমন এক প্...